Description
ধর্মীয় সাধক না গণআন্দোলনের পুরোধা—চৈতন্যদেবকে এই দুই পরিচয়ের একটিতে বেঁধে রাখা কি আদৌ সম্ভব?
এই বইটি সেই সহজ প্রশ্নের বিপরীতে দাঁড়িয়ে চৈতন্যদেবকে নতুনভাবে পাঠ করে—একজন মধ্যযুগীয় ভক্তিসাধক হিসেবে নয়, বরং ১৫শ শতকের বঙ্গসমাজে উদ্ভূত এক গভীর মানবিক, সামাজিক ও গণসংগঠনের শক্তি হিসেবে।
বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা, বর্ণব্যবস্থার কঠোরতা, ধর্মীয় নিপীড়ন ও প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘ অবমাননার প্রেক্ষাপটে চৈতন্যদেব কীভাবে ভক্তি, নৃত্য, গান ও নামসংকীর্তনকে সামাজিক মুক্তির ভাষায় রূপান্তরিত করেছিলেন—এই গ্রন্থ তার বিস্তৃত ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হাজির করে। নিমাই পণ্ডিত থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু হয়ে ওঠার আধ্যাত্মিক রূপান্তর যেমন এখানে আলোচিত, তেমনি আলোচিত তাঁর সংগঠকসত্তা, নগরসংকীর্তনের গণরাজনীতি, বর্ণবিরোধী অবস্থান, নিম্নবর্গ ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন, এবং চৈতন্যোত্তর বৈষ্ণব আন্দোলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি।
এই বইটি চৈতন্যদেবকে ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে মুক্ত করে দেখায়—যেখানে ভক্তি কেবল ঈশ্বরপ্রাপ্তির পথ নয়, বরং মানুষের ভয়ভাঙা, আত্মমর্যাদা ও সমতার চর্চা। আধুনিক সামাজিক আন্দোলন, অহিংস প্রতিরোধ, মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক রাজনীতির আলোকে চৈতন্যদেবকে পুনর্পাঠ করে গ্রন্থটি দেখায়, কীভাবে পাঁচশো বছর আগের এক মানবধর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সংস্কৃতির মিলিত পাঠে নির্মিত এই গ্রন্থ শুধু চৈতন্যদেবের জীবনী নয়—এটি বাংলার গণআন্দোলনের এক গভীর বৌদ্ধিক ইতিহাস।
আসতে চলেছে বইবন্ধুর অন্যতম স্বপ্নের প্রোজেক্ট “জননায়ক শ্রীচৈতন্য”







Reviews
There are no reviews yet.