Description
এক আশ্চর্য ভ্রমণোপন্যাস ‘বিজনে নিজের সঙ্গে’। এই উপাখ্যানের লেখক সেই বিরল বিশ্বপথিকদের একজন যিনি এক মহাদেশ থেকে উড়ে যান অন্য মহাদেশে, নামীদামি শহর থেকে অখ্যাত নগরীতে। স্বেচ্ছা ভ্রমণে তো বটেই, আমন্ত্রিত সফরে গেলেও তিনি কাজের ফাঁকে বেরিয়ে পড়েন কোনও খেয়ালি ভ্রমণে, যেখানে তিনি একা, নিজের মধ্যে নিজেকে খোঁজেন তিনি। এবার তিনি এসেছেন কলম্বিয়ার এক অখ্যাত শহর ম্যাডেলিনে কবিতা পাঠের আমন্ত্রণে। এই শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ড্রাগ, মাফিয়া, খুনোখুনির ইতিহাস। কিন্তু লেখক বিস্মিত হয়ে যান এরকম শহরেও শুধু কবিতা শোনার জন্য শত শত মানুষের জমায়েত দেখে। কলম্বিয়ায় আসার উড়ান-পথে লেখকের সঙ্গে এক রাজকীয় রমণীর দেখা হয়। মধ্যবয়সি এই বিদেশিনীর চলনে-বলনে আভিজাত্যের নম্র অহঙ্কার। তার নাম ইলিয়ানা। এই কাহিনীর সেই নিঃশব্দ নায়িকাকে, ম্যাডেলিন থেকে বিদায় নেওয়ার দিন পুলিশের সঙ্গে এক রক্তাক্ত সংঘর্ষের প্রাক্মুহুর্তে লেখক যেন চকিতে দেখতে পান। সত্যিই কি সেই শস্ত্রধারিণী নারীই ইলিয়ানা? কেন সে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল সেদিন?
বনভ্রমণের পথে পথে অনেক নদীর সঙ্গে দেখা হয়েছে লেখকের। নদীর শরীর, জল, নদীপাড়ের মানুষ, গ্রাম, মাঝি, জলযান এবং নদীর জীবনগাথা মিলেমিশে তৈরি হয়েছে এই স্বচ্ছতোয়া কথামালা ‘আমাদের ছোটনদী’। চলতে চলতে, দেখতে দেখতে নদীর সঙ্গে লেখকের মিতালি। সেইসব জলধারার বিচিত্র সব নাম-কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ, বিদ্যা, লিদার, পূর্ণা, জয়ন্তী, বিপাশা, ধানসিড়ি! এইসব নদীর মধ্যে কেউ অলঙ্কারহীন সরল, কেউ বা মায়াময়। কারও শরীর ঘিরে অন্তহীন জঙ্গল, কারও বা জল থেকে ধোঁয়া নির্গত হয়। কোনও নদীকে মনে হয় স্নিগ্ধনারী, কাউকে বা এক দুর্দান্ত প্রাণশক্তিসম্পন্ন কিশোর। একটি নদী যদি হয় নৃত্যপরায়ণা, তবে অন্যটি যেন কবিতার ধ্রুবপদ। লেখক অনুভব করেছেন, পৃথিবীর বহুদেশের নদীর জলে মিশে আছে তাঁর শরীরের উত্তাপ। শুধু দৃষ্টিপাতে নয়, নদীর সঙ্গে প্রকৃত ভালবাসা গড়ে ওঠে নিবিড় অবগাহনে। তার জলে নামলে নদীই বুঝিয়ে দেয় পৃথিবীর বুকে তার জীবনযাপনের রহস্যকাহিনী।







Reviews
There are no reviews yet.