Description
কেন এই বই?
প্রাচীন রোমে এক ধরণের অদ্ভুত ভয়ঙ্কর যুদ্ধনীতি নিতে রোমের সেনাবাহিনী। কোনও অঞ্চল আক্রমণ করলে সেখানের স্থানীয় মানুষের ব্যবহার করা নদী পুকুরে এক ভয়ঙ্কর বিষ মিশিয়ে দিত৷ বিষ মেশানো জল খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে হ্যালুসিনেট করা শুরু করত স্থানীয়রা। তলোয়ার হাতে নিজেদের একে অপরকে শত্রুে ভেবে লড়াই করত। কিছুটা দূর থেকে চুপ করে বসে এ লড়াই দেখত রোমান সেনারা৷ তারপর যখন নিজেদের মধ্যে লড়াই করে স্থানীয়রা দূর্বল হয়ে পড়ত তখন তাদের উপর নেমে আসত ভয়ঙ্কর আক্রমণ৷ এই যুদ্ধ নীতির নাম ছিল পয়জন দ্য রিভার৷ দিন বদলেছে, যুদ্ধরীতি খুব একটা বদলায়নি কোথাও কোথাও। সব হারিয়ে, রাতের অন্ধকারে কোনও মতে জীবন বাঁচিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসা একজন উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান পশ্চিমবঙ্গে বসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে যা নয় তায় বলে আক্রমণ করছে। এতে সবটা তাদের দোষ দেওয়া যায় না। বাম-কংগ্রেসের সুদীর্ঘ শাসনকালে বছরের পর বছর পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্য বইগুলোর মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভের বিষ মেশানো হয়েছে যে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম নিজেরা নিজেদের সঙ্গে লড়াই করছি। আর কেউ একটু আড়াল থেকে বসে সব নজর রাখছে, আমরা আর একটু দুর্বল হয়ে পড়ার মাহেন্দ্রক্ষণ খুঁজছে।
তবে শুধু শ্যামাপ্রসাদ নন, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয়তাবাদ ও সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি নিয়ে যে বাচ্চাটি কথা বলবে, আওয়াজ তুলতে চাইবে লিখতে চাইবে, প্রশ্ন করবে, জানতে চাইবে চব্বিশ পরগণার ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা মীর নিশার আলি কীভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামী হয়ে উঠল ইতিহাস বইতে? তার সামনে পাল্টা একটা অস্ত্র ছুঁড়ে দেওয়া হবে, স্বাধীনতা সংগ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ভূমিকা কী?
খেয়াল করে দেখবেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ কখন তৈরি হচ্ছে? ১৯২৫ সালে। আর ভারতের স্বাধীনতা লাভ কবে? ১৯৪৭ সালে। স্বাধীনতা সংগ্রামে মাত্র ২২ বছর সময় পেয়েছে আরএসএস। কিন্তু আপনাকে সংখ্যা গোনানো হবে আরএসএস থেকে কতজন জেলে গিয়েছিল? কতজন ফাঁসিতে ঝুলেছে? এর পাল্টা একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়াই যায় ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে সিপিএমের ভূমিকা কী? কিংবা পলাশীর যুদ্ধে কংগ্রেসের? ইংরেজরা নিজেদের সেফটি ভালভ হিসেবে কংগ্রেস তৈরি করেছিল ১৮৮৫ সালে। তারপরও প্রথম সারির ক’জন কংগ্রেসী নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ইংরেজরা? কজন প্রথমসারির কংগ্রেসী নেতাকে কালিপানি করানো হয়েছে?
আগা খান প্যালেসে সঙ্গীসাথীদের নিয়ে গৃহবন্দী হওয়া আর কালাপানি করে সেলুলার জেলের একটা সাড়ে আটফুটের কুঠুরিতে জীবনের ১০ বছর কাটানো এক নয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছড়িয়ে দেওয়া হয় সুক্ষ্ম ভাবে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা আন্দোলন করে জেলে গিয়েছেন বা ফাঁসিতে চড়েছেন, যাঁদের বড় নাম হিসেবে ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরাই কেবলমাত্র তাঁরাই স্বাধীনতা এনেছেন। আসল ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা, এঁরা ছাড়াও কয়েক লক্ষ সংখ্যায় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। যে মাস্টারমশাই প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে নিজের শিক্ষাকৌশলের মাধ্যমে একজন ক্ষুদিরাম বসু তৈরির চেষ্টা করতেন, যে গৃহস্থ মা প্রতিদিন ১০ জন বিপ্লবীর জন্য খাবার বানাতেন, যে গৃহস্বামী বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা স্বাধীনতা সংগ্রামী নন? তাদের অবদান নেই স্বাধীনতা সংগ্রামে? যে ব্যবসায়ী তার সব জমানো অর্থ ঢেলে দিতেন আন্দোলনে, যে বোন বিপ্লবী দাদার পিস্তল বেঁধে রাখত আঁচলে তাদের নাম ইতিহাসে থাকুক বা না থাকুক তাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামী।
১৯২৫ এ জন্ম নিয়ে ১৯৪৭ মাত্র এই ২২ বছরে স্বাধীনতা সংগ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক যা পাহাড় প্রমাণ কাজ করেছে তার তথ্য ভিত্তিক আলোচনা হওয়া জরুরি। সঙ্গেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘকে নিয়ে নানা অপপ্রচার ও মিথ-মিথ্যেরও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন। তাই এই বই।







Reviews
There are no reviews yet.