Description
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কি কেবল ব্যক্তিগত মুক্তির গ্রন্থ? নাকি এটি এমন এক চিরন্তন জীবনদর্শন, যা ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং সভ্যতার ভিত্তিকেও আলোকিত করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করাই এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রিক ভাবনায় গীতা’ প্রচলিত ভাষ্য বা ধর্মীয় ব্যাখ্যার পুনরাবৃত্তি নয়। গীতার নির্বাচিত শ্লোকের আলোকে এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কর্তব্য, স্বধর্ম, কর্মযোগ, নৈতিক নেতৃত্ব, সুশাসন, নাগরিক দায়িত্ব, আত্মসংযম, ত্যাগ, ন্যায়, আত্মসমর্পণ এবং জাতীয় চেতনার মতো বিষয়। প্রতিটি আলোচনায় গীতার মূল দর্শনের সঙ্গে শঙ্করাচার্য, রামানুজাচার্য, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক, স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী রঙ্গনাথানন্দ প্রমুখ মনীষীর ভাবনাকে সংলাপের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং সমকালীন রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে একটি সজীব সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। এই গ্রন্থের কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটিই-একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি কেবল আইন, প্রশাসন বা অর্থনীতিতে নয়; তার প্রকৃত ভিত্তি চরিত্রবান নাগরিক, কর্তব্যনিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং নৈতিক সমাজে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ তাই কেবল প্রাচীন ভারতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি প্রতিটি যুগের নৈতিক সংকট, প্রতিটি মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং প্রতিটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। যে পাঠক গীতাকে নতুন দৃষ্টিতে জানতে চান, যে নাগরিক কর্তব্য ও নেতৃত্বের দর্শন নিয়ে চিন্তা করেন, যে গবেষক ভারতীয় রাষ্ট্রভাবনার শিকড় অনুসন্ধান করতে আগ্রহী, এবং যে তরুণ নিজের জীবন ও জাতির প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে চান-এই গ্রন্থ তাঁদের সকলের জন্য। কারণ গীতার শিক্ষা কেবল অতীতের জন্য নয়; বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক। গীতা আমাদের শেখায়-চরিত্র থেকে কর্তব্য, কর্তব্য থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্বমানবতার পথ নির্মিত হয়। সেই অনন্ত যাত্রাপথেরই এক বিনম্র অনুসন্ধান ‘রাষ্ট্রিক ভাবনায় গীতা’।







Reviews
There are no reviews yet.