Description
ঔপনিবেশিক ও ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসচর্চায় দীর্ঘকাল ধরে এই বয়ান প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস ছিল যে, পাশ্চাত্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞার্থের বাইরে ভারতবর্ষ কখনোই একটি সুসংহত ‘জাতি’ (NATION) ছিল না এবং প্রাচীন ভারতীয়দের মধ্যে কোনো রাষ্ট্রবোধ বা স্বাজাত্যচেতনার অস্তিত্ব ছিল না। সহযোগী অধ্যাপক শ্রীস্বপন কুমার মণ্ডল তাঁর আকর গবেষণাগ্রন্থ ‘ভারতীয় দেশপ্রেমের ইতিহাস: প্রথম খণ্ড (প্রাচীন ভারতে দেশপ্রেম)’-এ বিপুল তথ্যসূত্র, ধ্রুপদী টেক্সট এবং নিবিড় বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই ঔপনিবেশিক ধারণাকে দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেছেন। লেখক সপ্রমাণ দেখিয়েছেন যে, পাশ্চাত্যের ভূখণ্ড-আগ্রাসী, সামরিক ও কৃত্রিম জাতীয়তাবাদের বিপরীতে প্রাচীন ভারতের ‘রাষ্ট্র’ ও ‘দেশপ্রেম’ গড়ে উঠেছিল আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, নৈতিক অনুশাসন (ঋত ও ধর্ম) এবং প্রকৃতি-সংলগ্ন জীবনবোধের ওপর ভিত্তি করে। এই স্বদেশপ্রীতি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’-এর বিশ্বজনীন দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, বরং তার পরিপূরক ভিত্তিপ্রস্তর। ঋগ্বেদের ‘নদীস্তুতি’ ও ‘সংজ্ঞান সূক্ত’, সামবেদের সার্বভৌম ‘স্বরাজ্য’ সাধনা, যজুর্বেদের নাগরিক সচেতনতা (“বয়ং রাষ্ট্রে জাগৃয়াম পুরোহিতাঃ”) এবং অথর্ববেদের কালজয়ী ‘ভূমি সূক্ত’ (“মাতা ভূমিঃ পুত্রো অহং পৃথিব্যাঃ”) থেকে শুরু করে উপনিষদের আত্মিক তেজ ও পুরাণের অখণ্ড ভৌগোলিক সংহতি-প্রতিটি পর্বে লেখক উন্মোচন করেছেন ভারতীয় রাষ্ট্রচেতনার চিরায়ত শেকড়। কুড়িটি সুবিন্যস্ত অধ্যায়ে গ্রন্থটি কেবল শাস্ত্রীয় তত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং কৌটিল্যের বাস্তববাদী কূটনীতি, মৌর্য-গুপ্ত সাম্রাজ্যের সংহতি ও সীমান্ত রক্ষা, স্কন্দগুপ্তের তুণ প্রতিরোধ, বিশপলা ও রানি ক্লিওফিসের মতো বীরাঙ্গনা নারীদের সমরপ্রচেষ্টা এবং সমাজের তৃণমূল স্তরে প্রোথিত আত্মত্যাগের প্রতীক ‘বীরপ্রস্তর’ (HERO STONES) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রাচ্যবিদ্যা ও সমাজতত্ত্বের গবেষক, শিক্ষক এবং চিন্তাশীল পাঠকের জন্য প্রাচীন ভারতের আত্মপরিচয় ও মননকাঠামো পুনর্নির্মাণে এটি একটি অপরিহার্য ও যুগান্তকারী সংযোজন।







Reviews
There are no reviews yet.