Description
বাংলাদেশে নিঃশব্দ হিন্দু নরসংহার আমাদের সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী অথচ সবচেয়ে উপেক্ষিত মানবিক ট্র্যাজেডিকে নথিভুক্ত করে—বাংলাদেশে হিন্দু সমাজের ক্রমাগত বিলুপ্তি। তথ্যভিত্তিক গবেষণা, জনসংখ্যাগত পরিসংখ্যান, আইনগত বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের মাধ্যমে এই বই তুলে ধরে কীভাবে একটি সভ্যতাকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে—হঠাৎ কোনো বিপর্যয়ের মাধ্যমে নয়, বরং ধারাবাহিক ভয়, সম্পত্তি লুণ্ঠন, জোরপূর্বক দেশত্যাগ, সাংস্কৃতিক অবলুপ্তি এবং পরিকল্পিত নীরবতার মধ্য দিয়ে। ড. রিচার্ড বেনকিন-এর গবেষণা ও তসলিমা নাসরিনের মতো কণ্ঠস্বরকে ভিত্তি করে বইটি দেখায় কীভাবে সহিংসতা, ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্টের মতো বৈষম্যমূলক আইন, ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা মিলিত হয়ে কয়েক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশের হিন্দু জনসংখ্যাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছে। এই প্রক্রিয়াকে বইটি নিছক নির্যাতন নয়, বরং একটি slow-motion genocide হিসেবে চিহ্নিত করে—যা আন্তর্জাতিক বিবেকের চোখের আড়ালেই সংঘটিত হয়েছে। এই বিবরণকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে শুধু বাংলাদেশে যা ঘটছে তা নয়, বরং সেই ঘটনার প্রতি বিশ্বসমাজের—এমনকি ভারতের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও গণমাধ্যম মহলের—নীরবতা। এই নীরবতা কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি আদর্শিক, কূটনৈতিক এবং গভীরভাবে নৈতিক ব্যর্থতার ফল। এটি ঘৃণা ছড়ানোর জন্য লেখা বই নয়। এটি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য লেখা। বাংলাদেশে নিঃশব্দ হিন্দু নরসংহার পাঠককে বাধ্য করে অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হতে—নির্বাচিত মানবাধিকার, ভণ্ড ধর্মনিরপেক্ষতা এবং নৈতিক কাপুরুষতার মূল্য সম্পর্কে। যারা ঘরছাড়া হয়েছে, যারা চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর যারা ইতিহাস থেকে মুছে গেছে—প্রায় কোনো শিরোনাম ছাড়াই—এই বই তাদের পক্ষের সাক্ষ্য। এই বই শুধু বাংলাদেশের কথা বলে না। এটি বলে সেই সমাজের কথা, যেখানে কষ্টেরও শ্রেণিবিন্যাস হয়, যেখানে ভুক্তভোগী বেছে নেওয়া হয়, এবং যেখানে নীরবতাই নীতিতে পরিণত হয়। অপরিহার্য, অস্বস্তিকর এবং আপসহীন—এই বইটি পাঠ করা, স্মরণ করা এবং তার জবাব দেওয়া জরুরি।







Reviews
There are no reviews yet.