Description
মহালয়ার এক ভোরে ছয় বছরের এক শিশুর মনে জেগে উঠেছিল যে প্রশ্ন, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ যাত্রা। সেই যাত্রা তাকে নিয়ে যায় রাজস্থানের তনোট মাতার নিঃসঙ্গ প্রান্তর থেকে ঝাড়খণ্ডের লোকদেবীদের অরণ্যে, বোকারোর পুজোমণ্ডপ থেকে কাশী ও কলকাতার চেতনাজগতে, আর সেখান থেকে কাশ্মীরের গভীর তত্ত্বদর্শনে। পথে উঠে আসে একের পর এক বিস্ময়কর অধ্যায়; গণক ঠাকুরের রহস্যময় পাণ্ডুলিপি, কোলবেদির অকালবোধন, দক্ষিণেশ্বরের কালী, তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্রের বিজ্ঞান, মহালক্ষ্মী-মহাসরস্বতী-মহাকালীর ত্রিকোণ তত্ত্ব, দশমহাবিদ্যার গূঢ় রহস্য এবং কাশ্মীর শৈবদর্শনের ছত্রিশ তত্ত্ব। কিন্তু ‘জাগো মা’ শুধুই দেবী-উপাসনা, তন্ত্র বা দর্শনের বই নয়। এটি এক গভীর অন্তর্জিজ্ঞাসার কাহিনি। যে প্রশ্নগুলি একদিন না একদিন প্রতিটি অনুসন্ধিৎসু মানুষের মনে জেগে ওঠে, আদিশক্তি যদি এক ও অভিন্ন হন, তবে তাঁর এত নাম কেন? দুর্গা আর ছিন্নমস্তিকা কি একই শক্তির ভিন্ন প্রকাশ? দেবীর মানবাকৃতি রূপের শুরু কোথায়? মন্ত্রের শব্দের অন্তরালে কী বিজ্ঞান কাজ করে? তন্ত্র কি সত্যিই ভয়ের ও অন্ধকারের বিষয়, নাকি তার গভীরে লুকিয়ে আছে চেতনার এক অনাবিষ্কৃত বিজ্ঞান? এই উত্তর খুঁজতে লেখকের যাত্রা পৌঁছে যায় বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বালুচিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সেইসব প্রাচীন ভূমিতে, যেখানে দেবীচেতনা সহস্রাব্দ ধরে নানা রূপে প্রবাহিত। স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও দর্শনের এক অনন্য সম্মিলন ‘জাগো মা’। এ বই শেষ পর্যন্ত বাইরের কোনো দেবীর সন্ধান নয়, এ এক নিজের ভিতরের শক্তিকে চিনে নেওয়ার যাত্রা। কারণ, কখনও কখনও দেবীকে জাগাতে হয় না। জাগাতে হয় আমাদের নিজেদের চেতনাকে।







Reviews
There are no reviews yet.