Description
‘নবজাতক’ দেশভাগ-পরবর্তী উদ্বাস্তু সমস্যা নিয়ে লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। সময়সরণি বেয়ে হিসাব করলে এটিকে সুমন চক্রবর্তীর পূর্ববর্তী উপন্যাস ‘প্রসবকাল’-এর পরের অংশ বলা যেতে পারে। সময়কাল দেশভাগের পরপর। মানে, দেশটা যখন একেবারেই নবজাতক! পূর্ববাংলা জুড়ে ছড়াতে থাকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ। সেই বিষ থেকে রেহাই পায় না ছটফা গ্রামও! মধুমতীর কোল ছেড়ে সিদ্ধা-হারাধনরা রওনা দিতে বাধ্য হয় হিন্দুস্থানের উদ্দেশে! সঙ্গে থাকে সিদ্ধা আর আদুরির সদ্যোজাত সন্তান কালু।
এপাশের সংখ্যালঘুরা তখন শান্তিতে ছিল! মোটেও নয়! সূর্যবাবুরা থাকতে শান্তিতে থাকার উপায় আছে! ফলে, এদিক থেকেও আহসান সাহেব-হারানরা রওনা দেয় পুব পাকিস্তানের পথে! না। তাদের সংখ্যা মোটেও ওপাশ থেকে আসা জনসংখ্যার আশপাশেও ছিল না! তবু, তাদের ভিটে হারানোর যন্ত্রণাকে কি খাটো করার উপায় আছে!
‘এপার বাংলা, ওপার বাংলা; মধ্যিখানে থাডা! দ্যাশ কাইটে দু-ভাগ করল জিন্না হারামজাদা!’ সে না হয় হল! কিন্তু, এ অদ্ভুত ব্যবস্থা। নদী নেই, খাল নেই! তবু পার হতে হবে! কী পার হতে হবে! না, ফাঁকা মাঠের মধ্যে পোঁতা কাঁটাতারের বেড়া! এধারে পেট্রাপোল, ওধারে বেনাপোল! নাঃ! কাঁটাতার টপকাতে হবে না! গেট আছে! কিন্তু, তা পার করা চাট্টিখানি কথা! এধারে যে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে আরম্ভ করে গোটা ছেলেবেলাটাই রয়ে যায়! আর কাঁটাতারের ওধারে! সে যে এক অনিশ্চিত সমুদ্র! তবু, হাজার হাজার মানুষ সেই অনিশ্চিত সমুদ্রেই ঝাঁপ দেয়। একের পর এক উদ্বাস্তু ঢেউয়ে প্লাবিত হয় গোটা পশ্চিমবাংলা! সেই ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে যায় আদুরি-দুলালি-কালু-সিদ্ধারা! বোয়ালমারির সমৃদ্ধ গ্রাম থেকে যাত্রা আরম্ভ করে তাদের শেষ পর্যন্ত পরিণত হতে হয় কুপার’স ক্যাম্পের ডোলজীবীতে! তাদের জীবনের বিচিত্র যাত্রাপথের আলো-আঁধারিই এই উপন্যাসের উপজীব্য!







Reviews
There are no reviews yet.